স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রকল্প বগুড়া এয়ারফিল্ডকে আন্তর্জাতিক মানের বিমান বন্দর ও বিমান বাহিনীর পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে সেখানে একটি আধুনিক ফ্লাইং একাডেমি ও পাইলট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার সকালে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল বগুড়া এয়ারফিল্ড ও সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকারী প্রতিনিধি দলে ছিলেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা,প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
পরিদর্শন শেষে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন,দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল কৃষি, শিল্প ও পর্যটনের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় অঞ্চল। এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি। রাজধানীর সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের আকাশপথে যোগাযোগ সহজ করতে বগুড়া এয়ারফিল্ডকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন,প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং আকাশসীমা সুরক্ষায় সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে। তিনি জানান,পর্যায়ক্রমে বগুড়া এয়ারফিল্ড সামরিক ও বেসামরিক উভয় ধরনের বিমান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হবে। দ্রুততম সময়ে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর জন্য বেবিচক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং এ বিষয়ে বিমান বাহিনী সার্বিক সহযোগিতা দেবে।এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য বড় উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের প্রথম সামরিক বিমান ঘাঁটি বগুড়ায় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিমান বাহিনীর তত্ত্বাবধানে পাইলট একাডেমি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে,যেখানে সামরিক পাইলটদের পাশাপাশি বেসামরিক তরুণ-তরুণীরাও প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন।
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর পরিচালনার জন্য প্রায় ১০ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে প্রয়োজন। বর্তমানে বিদ্যমান রানওয়ে সম্প্রসারণ করে সেই মানে উন্নীত করা হবে। ভবিষ্যতে এই বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক,অভ্যন্তরীণ ও সামরিক বিমান চলাচলের পাশাপাশি কার্গো সুবিধাও চালু করা হবে। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য দ্রুত রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে।রানওয়ে সম্প্রসারণে যেসব স্থাপনা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে সেগুলো অধিগ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে বড়মহর এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি উচ্চ বিদ্যালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে নতুন করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ঠেকাতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।পরিদর্শনকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, মোশারফ হোসেন, বেবিচকের চেয়ারম্যানসহ সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিষ্ঠাতাঃ মিজানুর রহমান।
প্রকাশক ও সম্পাদক : আবুল কালাম আজাদ বাবু, মোবাইল : ০১৭১১৪১২৮৯৮,
সৈয়দ আহম্মদ কলেজ, সোনাতলা, বগুড়া।
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ।। দৈনিক বগুড়া মেইল