প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ৭:৫২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ২৪, ২০২৩, ১:২৮ এ.এম
বগুড়ার বারপুরে চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে অমানবিক নির্যাতন

৩ মিনিটের ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওতে দেখা যায়, লাঠি ও কাঠের বাটাম দিয়ে বেদম মারপিট করছে বারপুর লাইলীপাড়া গ্রামের প্রভাবশালী জনৈক আবুল হোসেন, রাকিব হাসান ও রাজন মিয়া। এই ভিডিও চিত্রে দেখা যায় মানসিক যুবককে প্রথমে টেনে হিচড়ে মাটিতে ফেলে দেয় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। তারপর তার শরীরে লাঠি ও কাঠের বাটাম দিয়ে শুরু করে বেদম প্রহার। মারধর করার একপর্যায়ে আহত যুবকের হাত দড়ি দিয়ে পিছমোড়া করে বাধা হয়, আর পা দুটি বেধে রাখা হয় পাশের গাছের গোড়ালীর সাথে। মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকটি বারবার তাদের কাছে হাতজোর করে মাফ চাইলে মারধরের পরিমাণ আরো বাড়তে থাকে।
যুবকটি একসময় পানি খেতে চাইলে এলাকার প্রভাবশালী আবুল হোসেন, রাকিব হাসান ও রাজন তাকে পানি না দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এসময় সাব্বির নামের অই যুবক তাদের পা ধরে মাফ চাওয়ার চেষ্টা করলে পুনরায় তারা বেধড়ক প্রহার শুরু করে। একপর্যায়ে পাগল প্রায় যুবকটি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যায়। কিন্তু তাকে বাঁচাতে কাউকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি। তখন উপস্থিত অনেককেই অশ্লীল ভাষায় বন্দি যুবককে গালিগালাজ করতে শোনা যায়। সে অজ্ঞান হবার পরে আহত যুবকের মুখের উপর পানি ছিটিয়ে হুশ ফেরানোর চেষ্টা করে অভিযুক্ত সহ আরো অনেকে। কিছুক্ষণ পরে তার হুঁশ ফিরলে দ্বিতীয় দফায় মারপিট করে ঐ প্রভাবশালী মহল।
বর্তমান আধুনিকতার যুগে এ কেমন বর্বরতা !! এ কেমন নিষ্ঠুরতা !! উপস্থিত অনেকের মধ্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন , ছেলেটাকে অযথা মারধর করা হলো। তার কাছে থেকে কোন চুরির মালামাল তো পাওয়ায় যায়নি নূন্যতম একটা সূচও তার কাছে নাই। সে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে অনেকেই জানে। তবুও কিছু ব্যক্তি তাদের ক্ষমতার জানান দিতে এইভাবে হাত পা বেধে নির্যাতন করলো। স্থানীয়ভাবে তারা প্রভাবশালী হওয়ায় এই ঘটনায় কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। তবে এই মারপিটের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় সচেতন মহলে উঠেছে নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড়।
সচেতন অনেকেরই প্রশ্ন, একজন মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের কি সুস্থ ও স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার নেই?? সে যদি প্রকৃত অপরাধীও হয় তবুও কি এইভাবে নির্মম নির্যাতন করার অধিকার কথিত মাতব্বরদের আছে?? তারা কেন নিজের হাতে আইন তুলে নিলো?? তার উপর এমন অকল্পনীয় নির্যাতনের ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সে যদি প্রকৃত অপরাধীই হতো তাহলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলো কেন?? এমন বর্বর নির্যাতন করার অধিকার তাদের কে দিলো?? তারা কেন নিজের হাতে আইন তুলে নিলো?? তার সাথে হওয়া এমন জঘন্য অপরাধের সাথে যারা জড়িত সেইসব অপরাধীদের অতিদ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন বগুড়ার সুধী ও সচেতন মহল।
প্রতিষ্ঠাতাঃ মিজানুর রহমান।
প্রকাশক ও সম্পাদক : আবুল কালাম আজাদ বাবু, মোবাইল : ০১৭১১৪১২৮৯৮,
সৈয়দ আহম্মদ কলেজ, সোনাতলা, বগুড়া।
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ।। দৈনিক বগুড়া মেইল