প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ৪:৩৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ১৮, ২০২৩, ১১:৪৩ এ.এম
বগুড়ার তিন আসনে আ. লীগের সমঝোতা: দুই কূলই হারালেন মানিক-রাজু

দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই আসনে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে রাজুর ভোট করার আর সুযোগ রইল না। জোটের দলীয় প্রার্থী হয়ে নুরুল ইসলাম তালুকদার ওই আসনে গত ১০ বছর ধরে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়াও বগুড়ার-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের নৌকার মনোনীত প্রার্থী ছিলেন হেলাল উদ্দিন কবিরাজ। তিনি কাহালু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ ২২ বছর পরে এই আসনে আওয়ামী লীগের নেতা নৌকার মনোনয়ন পাওয়ায় এলাকার ভোটাররা উচ্ছ্বসিত ছিলেন। কিন্তু সেই উত্তাপে পানি ঢেলে দিল জোটের হিসাব-নিকাশ। তাকেও সরে যেতে হলে নির্বাচন থেকে। কারণ জোটের আরেক শরীক জাসদের প্রার্থী একেএম রেজাউল করিম তানসেনকে এই আসন ছেড়ে দিতে হয় আওয়ামী লীগকে। তিনিও বগুড়ার এই আসনে ২০১৪ সালে দশম নির্বাচনে জোটের বদৌলতে রাজ মুকুট পরে জাতীয় সংসদ সদস্য পদ লাভ করেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে উপনির্বাচনে ফের জোটের সুবাদে সংসদ সদস্যের তকমা পান। তবে তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ জনগণের জন্য কী করেছেন তার সমীকরণ ভিন্ন। এবার জাসদ থেকে তাকে মনোনীত করার পর নিজ দলেই তোপের মুখে পড়েন তিনি। নন্দীগ্রামে গত ১১ ডিসেম্বর প্রকাশ্যে সভা করে তানসেনকে নির্বাচনে বয়কটের ঘোষণা দেন দলের নেতাকর্মীরা। সভা শেষে নন্দীগ্রাম উপজেলা জাসদ সভাপতি কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা চাই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে হোক। কিন্তু আমাদের দলীয় প্রার্থী একেএম রেজাউল করিম তানসেনের পক্ষে এবার ভোট করব না। তার নীতি-নৈতিকতার খুব অভাব। তিনি বারবার দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। এছাড়া জাসদ নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করেননি। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নৌকার তিন জন বাদে মনোনয়ন প্রত্যাহারের তালিকায় বগুড়ার ছয় আসনের জাকের পার্টির প্রার্থীরা রয়েছেন। তারা হলেন, বগুড়া-২ আসনের মো. আসগর আলী ফকির, বগুড়া-৩ আসনের মো. গোলাম মোস্তফা, বগুড়া-৪ আসনের আব্দুর রশিদ সরদার, বগুড়া-৫ আসনের মাছুম রানা ওয়াসীম, বগুড়া-৬ আসনের মোহাম্মদ ফয়সাল বিন শফিক ও বগুড়া-৭ আসনের মো. নাজির মাহমুদ রতন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে বগুড়া-১ আসনের আব্দুর রহমান ও বগুড়া-৭ আসনের ফারুক আহমেদ নিজেদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। বগুড়ার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান জানান, রোববার প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল। এদিন মোট ১১ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। এর মধ্যে নৌকার তিন জন। আগামীকাল সোমবার প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। নির্বাচন অফিস সূত্র জানিয়েছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার ৭টি আসনে বৈধভাবে প্রার্থী মনোনীত হয়েছিলেন মোট ৬৪ জন প্রার্থী। গত ৩ ও ৪ ডিসেম্বর যাচাই-বাছাই শেষে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে ৬০ জনের। পরে উচ্চ আদালতে আপিল করে প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন আরও ৪ জন প্রার্থী। বগুড়ার ৭টি আসনে বৈধ প্রার্থী মোট ৬৪ জন। এরমধ্যে গতকাল রবিবার ১১ জন প্রত্যাহার করে নেয়ায় মোট প্রার্থী দাঁড়িয়েছে ৫৩ জন।
প্রতিষ্ঠাতাঃ মিজানুর রহমান।
প্রকাশক ও সম্পাদক : আবুল কালাম আজাদ বাবু, মোবাইল : ০১৭১১৪১২৮৯৮,
সৈয়দ আহম্মদ কলেজ, সোনাতলা, বগুড়া।
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ।। দৈনিক বগুড়া মেইল