স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শামছুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। মাত্র তিন মাস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে তিনি লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাসা-বাড়ির বার্ষিক কর (ইউপি ট্যাক্স) বাবদ প্রায় ৬ লাখ টাকা এবং জাতীয় স্যানিটেশন প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের জমা দেওয়া ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা তিনি সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া সরকারি চাল বিতরণ ও সালিশের টাকাসহ বিভিন্ন খাতের অর্থ নিয়েও তিনি গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত রোববার স্বপদে ফিরে ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আব্দুল মতিন দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিষদের প্রথম সভায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তবে ওই বৈঠকে অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান শামছুর রহমান অনুপস্থিত ছিলেন।
ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম, মুকুল হোসেন, আক্কাস আলী, ফজলুর রহমান, বেদেনা বেগম, পুতুল রানী ও বিলকিস জাহান জানান, জাতীয় স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় ল্যাট্রিন নির্মাণের জন্য প্রত্যেক সুবিধাভোগীর কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে সংগ্রহ করা হয়। তারা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে টাকা এনে প্যানেল চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেন। কিন্তু তিনি সেই টাকা সরকারি হিসাবে জমা দেননি।ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন নির্মাণে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে নির্ধারিত টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু প্যানেল চেয়ারম্যান টাকা গ্রহণ করেও তা জমা দেননি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শামছুর রহমান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “এক মাস অপেক্ষা করেন, তখন কথা বলব।”ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সভায় বিষয়টি নজরে আসে। অভিযুক্তকে প্রশাসনিকভাবে নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত জবাব চাওয়া হয়েছে।
এদিকে বগুড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গোলাম কিবরিয়া জানান, জাতীয় স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় নন্দীগ্রাম উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ৫৭৫টি টুইনপিট ল্যাট্রিন নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে ১১৫ জন করে সুবিধাভোগী পাবেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেককে চালানের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা জমা দিতে হয়। বিষয়টি তদন্ত করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠাতাঃ মিজানুর রহমান।
প্রকাশক ও সম্পাদক : আবুল কালাম আজাদ বাবু, মোবাইল : ০১৭১১৪১২৮৯৮,
সৈয়দ আহম্মদ কলেজ, সোনাতলা, বগুড়া।
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ।। দৈনিক বগুড়া মেইল