মুহাম্মাদ আবু মুসাঃ বগুড়া গাবতলীর দড়িপাড়া জাহের উদ্দিন আদর্শ নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে ব্যাংক হিসাব খোলা নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও গড়মিল এর অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ব্যাংক ড্রাফ্ট/পে-অর্ডার স্থানীয় রুপালী ব্যাংক সাবেকপাড়া শাখার ৯৬৪০ নং হিসাব এর অনুকুলে চাওয়া হয়। কিন্তু ওই সময় ওই ব্যাংকে ৯৬৪০ নং কোন হিসাব নাম্বারই ছিল না। তবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ১১মাস পর ওই ব্যাংকে হিসাব নাম্বারটি খোলা হয় অজ্ঞাত কারনে বালিকা শব্দটি বাদ দিয়ে। ব্যাংক হিসাব খোলা নিয়ে ব্যাপক গড়মিল ও অনিয়মভাবে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেয়া সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারী আবু আছাদ। এর প্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোহাঃ আবদুর রশিদ স্বাক্ষরিত গত ১০ সেপ্টম্বর/২৬ একটি চিঠি দেন বগুড়া জেলা শিক্ষা অফিসারকে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, দড়িপাড়া জাহের উদ্দিন আদর্শ নি¤œ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও আয়াসহ ৬টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে যে ব্যাংক একাউন্ট ব্যবহার করা হয়েছে তা সঠিক কিনা তদন্তপূর্বক ৭দিনের মধ্যে সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন দাখিল করার আদেশ দেন। এ ছাড়া রুপালী ব্যাংক সাবেকপাড়া শাখার ৯৬৪০ নং হিসাব নাম্বারটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পূর্বে না পরে খোলা হয়েছে এবং বিদ্যালয়ের নামের যথাযথ মিল আছে কিনা তা যাচাই করতে হবে। যে কারনে জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ রমজান আলী আকন্দ স্বাক্ষরিত ২৭ সেপ্টম্বর/২৬ একটি চিঠি ইস্যু করে উভয় পক্ষকে দেন ১অক্টোবর/২৬ সরাসরি তদন্ত করার জন্য। সেই মোতাবেক বৃহস্পতিবার জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ রমজান আলী আকন্দ তদন্তের জন্য সরাসরি ওই বিদ্যালয়ে যান। যে হেতু শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মুল অভিযোগ হলেও অজ্ঞাত কারনে ব্যাংকে না গিয়ে ওই বিদ্যালয়ে থেকে চলে যান তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ রমজান আলী আকন্দ। ফলে শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে ১অক্টোবর/২৬ বিকেল ৩টা ২০মিনিটে তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ রমজান আলী আকন্দ এর সাথে তার ব্যবহারিত মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি জানান, ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে ব্যাংক হিসাব খোলা নিয়ে গড়মিল আছে কিনা ব্যাংকে যেতে হবে। এ ছাড়া আরো নানা অভিযোগ রয়েছে।
তবে শিক্ষানুরাগীরা বলছেন, কেউ ধামাচাপা দেয়ার চেষ্ঠা করলেও এবার ফেঁসে যাচ্ছেন অনিয়মতান্ত্রিকভাবে নিয়োগ পাওয়া প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও আয়াসহ ৬জন। কারন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১১মাস পর ৯৬৪০ নং ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে ২০০৩ সালের ৭অক্টোবর আর বিদ্যালয়ের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে ২০০৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর। এ ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের নামও চুরি করা হয়েছে। ২০০৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় রুপালী ব্যাংক সাবেকপাড়া শাখার ৯৬৪০ নং হিসাবে বিদ্যালয়ের নাম দেয়া হয়েছে দড়িপাড়া জাহের উদ্দিন আদর্শ নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। তবে ২০২৬ সালের ১১আগস্ট হিসাব নাম্বার ঠিক রেখে বিদ্যালয়ের নাম সংশোধন দড়িপাড়া জাহের উদ্দিন আদর্শ নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় করা হয়েছে। শুধু বালিকা আগে বাদ দিয়ে ছিল এখন আবার যুক্ত করেছে। এভাবেই নানা অনিয়ম দূর্নীতি চলছে ওই বিদ্যালয়ে।
প্রতিষ্ঠাতাঃ মিজানুর রহমান।
প্রকাশক ও সম্পাদক : আবুল কালাম আজাদ বাবু, মোবাইল : ০১৭১১৪১২৮৯৮,
সৈয়দ আহম্মদ কলেজ, সোনাতলা, বগুড়া।
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ।। দৈনিক বগুড়া মেইল