মুহাম্মাদ আবু মুসাঃ পূর্ব বগুড়া তথা গাবতলীর ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ ও জামাই মেলা এবার হচ্ছেনা। ফলে আনন্দ উৎসব থেকে বঞ্চিত হচ্ছেনা লাখো মানুষ। মেলাটি প্রায় চারশত বছর পূর্বে থেকে হয়ে আসলেও কোন বছরই বন্ধ থাকেনি। এমন কি করোনাকালিন সময়ও মেলাটি বসে বিশাল আকারে ছিল। মেলার আয়োজকদের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছরই নিদিষ্ঠ দিনে ¯’ানীয় সন্ন্যাসী পূজা উপলক্ষে গাড়ীদহ নদী ঘেঁষে সম্পূর্ন ব্যক্তি মালিকানা জমিতে একদিনের জন্য মেলাটি বসে। এবার সেই নিদিষ্ঠ দিনটি পড়েছে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বের দিন অর্থাৎ ১১ফের্রুয়ারী/২৬ বুধবার। যে কারনে এবার ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ ও জামাই মেলাটি বন্ধ থাকছে। ফলে আনন্দ উৎসব থেকে বঞ্চিত হ”েছন সব বয়সীর লাখো মানুষ। তবে আগামী বছর থেকে যথাযথ নিয়মে বা আয়োজকদের নিদিষ্ঠ দিনেই মেলাটি বসবে। এ ব্যাপারে মেলার পরিচালক ও ¯’ানীয় মহিষাবান ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ মন্ডলের সাথে কথা বললে তিনি জানান, মেলাটি জন্মের প্রায় চারশত বছরের মধ্যে কোন বছরই বন্ধ না থাকলেও এবার গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারনে মেলাটি বন্ধ রাখতে হ”েছ। আয়োজকদের নিয়ম এবং উ”চ আদালতের একটি আদেশের কারনে ১২ফের্রুয়ারী/২৬ নির্বাচনের আগে বা পরে অন্য কোন দিনে মেলাটি বসানো যা”েছ না। ফলে আইনকে শ্রদ্ধা ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সমযোগিতা এবং উৎসবমুখর করতে ১১ফের্রুয়ারী/২৬ বুধবার ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ ও জামাই মেলাটি বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। এ বছর মেলাটি না হলেও আগামীতে যথারীতিভাবে ঢাকঢোল পিটিয়ে উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যমে মেলাটি অনুষ্ঠিত হবে। তবে এবার মেলা বন্ধ হওয়ায় বহু ব্যবসায়ীর অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতি পোহাতে হ”েছ।
মেলাটি জন্মের পর থেকে মহিষাবান গ্রামের মন্ডল পরিবার পরিচালনা করে আসছে। স্হানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মেলার লাইসেন্স দেয়া হয়। বাংলার প্রতি বছরের মাঘ মাসের শেষ অথবা ফাল্গুন মাসের প্রথম বুধবার মেলাটি হয়ে থাকে। মেলাটি একদিনের জন্য হলেও ওই এলাকায় মেলার আমেজ থাকে সপ্তাহ ব্যাপী। এই মেলাকে ঘিরে ওই এলাকার প্রতিটি গ্রামে বাড়িতে বাড়িতে মিলন মেলা হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ মেলায় এসে ক্রয়-বিক্রয় করে।
মেলা উপলক্ষে আশপাশের গ্রামের প্রতিটি বাড়ীতে আত্মীয় স্বজন এসে সমবেত হয়। ঈদ বা কোন উৎসবে জামাই-মেয়েসহ অন্যান্য আত্মীয় স্বজনদের দাওয়াত না দিলেও তেমন কোন সমস্যা নেই। তবে মেলা উপলক্ষে দাওয়াত দিতেই হবে, যা রেওয়াজে পরিনীত হয়েছে। এ সব থেকে এবার বঞ্চিত হচ্ছে লাখো মানুষ।
মেলায় প্রসিদ্ধ হলো খুব বড় বড় মাছ, হরেক রকম মিষ্টি, কাঠ বা ষ্ঠীলের র্ফানিচার, বড়ই (কুল), কৃষি সামগ্রীসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ও খাদ্য দ্রব্য হাট-বাজারের ন্যায় কেনা-বেচা করা হয়। এ ছাড়া বিনোদনমূলক সার্কাস, নৌকা, মাইক্রো-কার খেলা, যাদু, ও নাগোরদোলার আয়োজন করা হয়। এবার মেলা বন্ধ হওয়ায় বহু ব্যবসায়ীর অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতি পোহাতে হচ্ছেনা
প্রতিষ্ঠাতাঃ মিজানুর রহমান।
প্রকাশক ও সম্পাদক : আবুল কালাম আজাদ বাবু, মোবাইল : ০১৭১১৪১২৮৯৮,
সৈয়দ আহম্মদ কলেজ, সোনাতলা, বগুড়া।
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ।। দৈনিক বগুড়া মেইল