প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ১:২৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ২৬, ২০২৬, ৫:৪০ এ.এম
গাবতলীতে অনিয়মের অভিযোগে ডিলারশীপ বাতিল ডিলার আব্দুর রশিদ কারাগারে

মুহাম্মাদ আবু মুসাঃ বগুড়ার গাবতলীতে ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি ও অসৎ উদ্দেশ্যে বিক্রয় কেন্দ্রে বিপুল পরিমাণ চাল কম নিয়ে আসাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আব্দুর রশিদ নামের একজনের ডিলারশীপ বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া থানায় তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে ডিলার আব্দুর রশিদ (৪২)কে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।নানা অভিযোগ ও তার বিরুদ্ধে দাযেরকৃত মামলার প্রেক্ষিতে ডিলারশীপ বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হারুন অর রশিদ। অপরদিকে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাকিব হোসেন জানিয়েছেন, ভুয়া মাস্টার রোল এবং অসৎ উদ্দেশ্যে বহু চাল কম রাখায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে ডিলার আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ২৪ আগস্ট/২৬ রাতে মামলাটি দায়ের করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মাহমুদা মোস্তাজিয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
কারাগারে যাওয়া আব্দুর রশিদ উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের আটবাড়িয়া গ্রামের কছিম উদ্দিনের ছেলে এবং স্থানীয় ১ নং ওয়ার্ড বিএনপি'র সভাপতি।
তবে এলাকাবাসী জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃত আব্দুর রশিদ দীর্ঘদিন যাবত হলে কালো বাজারের ব্যবসা করে আসছে। এরমধ্য খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ডিলার নিয়োগের জন্য তিনি আবেদন করলে লটারির মাধ্যমে তার নাম উঠে। দীর্ঘদিন যাবত তিনি বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করে নানা অনিয়মের মাধ্যমে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণ করে আসছে। এছাড়া আরো ১২জন ডিলারের সাথে তার এমন অবৈধ ব্যবসা রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষ এবং সঠিকভাবে তদন্ত করলেই তা থলের বিড়াল বের হয়ে আসবে বলে অভিজ্ঞ মহল জানিয়েছেন। ডিলার আব্দুর রশিদের কালোবাজারের ব্যবসার
খবরটি প্রশাসনের মধ্য জানাজানি হলে সোমবার ২৪ আগস্ট/২৬ বগুড়া থেকে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহম্মাদ উপস্থিতিতে নানা অনিয়মসহ তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। পরে তাকে গাবতলী থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, অনিয়মের খবরে বগুড়া থেকে ফয়সাল আহম্মাদ নামের একজন ম্যাজিস্ট্রেটও সেখানে উপস্থিত হন। ডিলার আব্দুর রশিদের বিক্রয়ের জন্য চাল বরাদ্দ হয় ৭০৭ বস্তা। দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ঘটনাস্থলে যাওয়ার পূর্বেই চাল বিতরণ করা শুরু করলে সাবেকপাড়া ও সুখানপুকুর খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার মাধ্যমে তা বন্ধ করা হয়। এরমধ্য দুই বস্তা বিতরণ করলেও ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩৯৮ বস্তা চাল পাওয়া যায়। অসৎ উদ্দেশ্যে চাল গুলো রাখায় পরে ঘটনাস্থলে অর্থাৎ বিক্রয় কেন্দ্রে আনার চেষ্টা করে ডিলার আব্দুর রশিদ। এছাড়া তার চাল বিক্রি করার মাস্টার রোলে বেশ অসঙ্গতি পাওয়া যায়। এর মধ্যেও ১৫১ জনের ভুয়া নাম তালিকা রয়েছে মাস্টার রোলে।
প্রতিষ্ঠাতাঃ মিজানুর রহমান।
প্রকাশক ও সম্পাদক : আবুল কালাম আজাদ বাবু, মোবাইল : ০১৭১১৪১২৮৯৮,
সৈয়দ আহম্মদ কলেজ, সোনাতলা, বগুড়া।
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ।। দৈনিক বগুড়া মেইল