বিকাশ স্বর্নকার,বগুড়া আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলার পূজা উদযাপন পরিষদ ও পূজা ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পূজামণ্ডপ ও এর আশপাশে মাদক ও জুয়ার আসর বন্ধ, মাদক কেনাবেচা ও সেবন প্রতিরোধ এবং বিস্ফোরক দ্রব্যের অপব্যবহার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ই অক্টোবর) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ ‘করতোয়া’য় এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা।সভায় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মাদক ও জুয়া প্রতিরোধ, বিস্ফোরক দ্রব্যের অপব্যবহার রোধ এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, পূজা চলাকালে কোনো মন্দির বা পূজামণ্ডপের আশপাশে মাদক ও জুয়ার আসর বসানো কিংবা মাদকদ্রব্য কেনাবেচা ও সেবন করা যাবে না। একই সঙ্গে বিস্ফোরক দ্রব্যের ব্যবহার এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের নিরাপদ চলাচল ও সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রতিমা বিসর্জনের সময় বিশেষভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দকে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে উৎসব পরিচালনা করতে হবে।প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ। এ দেশে সব ধর্মের মানুষ আনন্দঘন পরিবেশে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করে থাকেন। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবারের দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন,একটি মহল নাশকতার চেষ্টা করতে পারে,এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। বগুড়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। সবাই সচেষ্ট থাকলে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব উদযাপন সম্ভব হবে।সভায় বক্তব্য দেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরিমল চন্দ্র দাস ও জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ডা. এনসি বাড়ই। এ ছাড়া বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলার পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও পূজা ফ্রন্টের নেতারা বক্তব্য দেন। তারা পূজা আয়োজন, নিরাপত্তা এবং স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন।সভায় বিএনপির জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ, জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিষ্ঠাতাঃ মিজানুর রহমান।
প্রকাশক ও সম্পাদক : আবুল কালাম আজাদ বাবু, মোবাইল : ০১৭১১৪১২৮৯৮,
সৈয়দ আহম্মদ কলেজ, সোনাতলা, বগুড়া।
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ।। দৈনিক বগুড়া মেইল