আদমদীঘি( বগুড়া)প্রতিনিধিঃ বগুড়ার আদমদীঘির ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর সভার মাঠ জুড়ে সবুজের সমারোহ।
বাতাসে আমন ধানের সবুজ ঢেউ আদমদীঘি উপজেলার কৃষকের মন ভরিয়ে দিচ্ছে। ঢেউয়ের মতো খেলে যাচ্ছে ধান
গাছের সবুজ পাতা। আমন ধান নিয়ে কৃষকের স্বপ্ন। সবুজ ধানের ক্ষেত দেখে আনন্দে বুক ভরে উঠছে কৃষকের মন। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। কৃষকের নিবিড় পরিচর্যা, সারের কিছুটা সংকট থাকার কারনে পরিমানের চেয়ে কিছুটা কম সার জমিতে প্রয়োগ এবং সময় মত কীটনাশক প্রয়োগের কারণে আমনের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক। ক'দিন পরেই ধানের সবুজ চারায় কাঁচা শিষ আসবে এবং কাঁচা শিষ হলুদ বর্ণ ধারণ করবে। এরপর সোনালী ধানের শিষে ঝলমল করবে মাঠের পর মাঠ। মাঠ ভরা ফসলের স্বপ্ন দেখে কৃষকদের চোখে মুখে ফুটে উঠবে আনন্দের ছোঁয়া। রাশি রাশি সোনালি ধানে ভরে উঠবে কৃষক-কৃষাণীর শূন্য গোলা। আমন মৌসুমকে ঘিরেই স্বপ্ন দেখছে আদমদীঘি উপজেলার কৃষকরা। ধানের সবল-সতেজ চারা এবং
শিষ বের হবে। তাই এবার ধানের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি আমন মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আমন ধানের মাঠে সবুজের সমারোহ। কৃষকরা মাঠে সকাল
থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমিতে সেচ, সার, কীটনাশক প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার নিয়ে ব্যস্ত সময় পার
করছেন। আদমদীঘি উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, চলতি মৌসুমে আদমদীঘি উপজেলার ৬ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা মিলে এবার ১২ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করা হয়। এরমধ্যে স্বর্না-৫, বিনা-১৭,বিআর-৯০ ও সুগন্ধি সহ বেশ কয়েক জাতের রোপা আমন ধান রোপন করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় আমন ক্ষেতে তেমন কোন রোগবালাই দেখা দেয়নি। তারপরেও কৃষকরা তাদের ক্ষেতের জমিতে কীটনাশক স্প্রে দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে কিছু কিছু জমিতে আমন ধানের গামোর, শীষ বের হতে শুরু করেছে। ডালম্বা গ্রামের কৃষক জিল্লুর রহমান,তালসন গ্রামের সুভাষ সরকার,কোমারপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম, বন্তইর গ্রামের কামরুজ্জামান জানান,জমিতে পরিমান মত বৃষ্ঠির পানি,ধান গাছে ঠিকমত রোদ লাগায় আমন ক্ষেতে তেমন কোন রোগবালাই সৃষ্ঠি হয়নি। এতে করে কৃষকরা এবার বাম্পার ফলনের আশা করছে। উপজেলা কৃষি অফিসার রবিউল ইসলাম জানান,চলতি মৌসুমে সময় মত জমিতে বৃষ্টির পানি ও আমন ধানের গাছে রোদ লাগায় এবং কৃষি অফিসের পরামর্শে কৃষকদের এবার ফলন ভালো হয়েছে। যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তাহলে আশা করা যায় কৃষকরা তাদের কাংক্ষিত ফসল ভালো ভাবে ঘরে তুলতে পারবেন।
প্রতিষ্ঠাতাঃ মিজানুর রহমান।
প্রকাশক ও সম্পাদক : আবুল কালাম আজাদ বাবু, মোবাইল : ০১৭১১৪১২৮৯৮,
সৈয়দ আহম্মদ কলেজ, সোনাতলা, বগুড়া।
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ।। দৈনিক বগুড়া মেইল