আদমদীঘি(বগুড়া)প্রতিনিধিঃ আমরা মাছে-ভাতে বাঙালি। এক সময় আদমদীঘির রক্তদহ বিল ও কয়েকটি খালে প্রচুর দেশীয় মাছ মিলতো। কিন্তু অবৈধ দখলদারদের কারনে দিনে দিনে রক্তদহ বিল এবং কয়েকটি খালের আয়তন কমে যাচ্ছে। এখনও বিলের অনেকটা প্রসার রয়েছে, কিন্তু উপজেলার সান্তাহার শহরে স্থাপিত কয়েকটি চালকল মিলের বিষাক্ত বর্জ্য খাল দিয়ে বিলে চলে যাওয়ায় দূষিত হচ্ছে বিলের পানি। এর ফলে দেশি প্রজাতির মাছ এখন বিলুপ্ত পথে। এছাড়ার বর্তমানে রিং জালের কারনে আরো দেশীয় বিলুপ্তি হতে বসেছে।
একসময় আদমদীঘির রক্তদহ বিল,সান্তাহার হয়ে তিলকপুর অভিমূখী খাল,আদমদীঘি উপজেলা সদর হয়ে জিনইর অভিমূখী খাল,নশরতপুর হয়ে বরবরিয়া অভিমূখী খাল সহ আরো কয়েকটি খালের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ গ্রাম-গঞ্জের হাটবাজারে মিলত প্রচুর। দেশীয় এসব মাছের মধ্যে রয়েছে— কৈ, মাগুর, শিং, পাবদা, টেংরা, পুঁটি, ডারকা, মলা, ঢেলা, চেলা, শাল চোপরা, শোল, বোয়াল, আইড়, ভ্যাদা, বুড়াল, বাইম, খলিসা, ফলি, চিংড়ি, মালান্দা, খরকাটি, গজার, শবেদা, চেং, টাকি, চিতল, গতা, পোয়া, বালিয়া, উপর চকুয়া, কাকিলা, গুত্তুম, গজার বৌরানীসহ প্রায় ৫০টিরও বেশি মিঠা পানির বিভিন্ন ধরনের মাছ।
এসব মাছ কমে যাওয়ার পেছনে অন্তত ১৪টি কারণকে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
আষাঢ় শ্রাবন মাসে অর্থাৎ
বর্ষাকালে ধানের জমিতে কইয়া জাল, বড়শি ও চাঁই পেতে মাছ ধরার রীতিও হারিয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে রক্তদহ বিল,খাল, ডোবা, নালায় মাছ ধরে অনেক পরিবার চলতো। বিল ও খাল গুলোতে এখন তেমন দেশীয় মাছ মিলছে না, ফলে অনেক পরিবার বেকার হয়ে পড়েছে। দেশীয় মাছ বিলুপ্তি হওয়ার মূল কারন হলো, জলবায়ুর প্রভাব, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, কারেন্ট জালের অবৈধ ব্যবহার, ফসলি জমিতে অপরিকল্পিত কীটনাশক ব্যবহার, জলাশয় দূষণ, নদ-নদীর নব্যতা হ্রাস, উজানে বাঁধ নির্মাণ, নদী সংশ্লিষ্ট খাল-বিলের গভীরতা কমে যাওয়া, ডোবা ও জলাশয় ভরাট করা, মা মাছের আবাসস্থলের অভাব, ডিম ছাড়ার আগেই মা মাছ ধরে ফেলা,ডোবা-নালা-পুকুর-বিল ছেঁকে মাছ ধরা, বিদেশি রাক্ষুসে মাছের চাষ ও মাছের প্রজননে ব্যাঘাত ঘটানো। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই ১৪টি কারণে ৫০ টির বেশি দেশি প্রজাতির মাছ হারিয়ে যেতে বসেছে।
আদমদীঘি উপজেলা সদরের মাছ বাজারের মাছ বিক্রেতা গৌরাঙ্গ প্রামানিক,পুলক সরকার,গনেশ সরকার সহ বেশ কয়েকজন মাছ বিক্রেতারা বলেন, আজ থেকে ১০/১২ বছর আগেও রক্তদহ বিলের প্রচুর পরিমান দেশীয় মাছ বাজারে পাওয়া যেত। এখন বিল ও খালের মাছ বাজারে তেমন আমদানী হয় না। চাষের মাছের ওপর সবাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
আদমদীঘি উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার নাহিদ হোসেন বলেন, হারিয়ে যাওয়া দেশি প্রজাতির মাছের সংখ্যা আড়াই শ-এর বেশি। হাটবাজার, পুকুর, খাল, বিল কোথায়ও এখন আর মিঠাপানির সুস্বাদু সেসব মাছ মিলছে না। দেশি মাছের বদলে এখন বাজারে জায়গা দখল করে নিয়েছে কৃত্রিম প্রজনন চাষের পাঙ্গাস, তেলাপিয়া, ক্রস ও কার্প জাতীয় মাছ। তবে আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার "মৎস্য প্লাবণ ভূমি উপ-কেন্দ্রে" দেশীয় কিছু প্রজাতির মাছ কৃত্রিম প্রজনন এর মাধ্যমে উৎপাদন করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বিল বা খালে বর্তমানে রিং জালের মাধ্যমে কিছু অসাধু ব্যক্তি দেশীয় মাছ গুলো শেষ করে দিচ্ছে। আমরা ( ২৯ জুলাই) বুধবার,আদমদীঘির রক্তদহ বিলে ভ্রাম্যমান অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৩৪ টি চায়না দুয়ারি রিং জাল এবং ৩ টি খড়া জাল জব্দ করে ধবংস করছি। ভ্রাম্যমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মোটকথা সকলে মিলে সচেতনা না হলে যে টুকু দেশীয় মাছ বিল-খালে মিলছে, সেটাও ভবিষৎতে মিলবে না।
প্রতিষ্ঠাতাঃ মিজানুর রহমান।
প্রকাশক ও সম্পাদক : আবুল কালাম আজাদ বাবু, মোবাইল : ০১৭১১৪১২৮৯৮,
সৈয়দ আহম্মদ কলেজ, সোনাতলা, বগুড়া।
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ।। দৈনিক বগুড়া মেইল