মিহির কুমার সরকার,আদমদীঘি (বগুড়া)ঃ বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সদরের পশ্চিম বাজার ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় আঞ্চলিক মহাসড়কের সড়ক ও জনপথ (সওজ) এবং খালের জায়গা অবৈধ ভাবে দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে হারুনুর রশিদ ভোলা নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। হারুনুর রশিদ ভোলা আওয়ামী লীগ শাসন আমলে আওয়ামী মৎস্যজীবি লীগের নেতা সেজে দলীয় প্রভাব খাটিয় সড়ক জনপদের জায়গায় পাকা স্থাপনা নির্মান করেন। সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে । এদিকে সরকারি জায়গায় পাকা স্থাপনা নির্মান করলেও কেউ যেন দেখার নেই।
প্রকাশ্য দিবালোকে সরকারি জায়গায় স্থাপনা নির্মাণকারী ওই ব্যক্তির ছেলে বর্তমান সরকার দলীয় নেতা হওয়াতে রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবশালী হবার কারনে ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। মূলতঃ আওয়ামী লীগের সময় বাবা নেতা, বিএনপির সময় ছেলে নেতা। এ এঘটনাটির ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও অদ্যবধি প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয জনমনে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা সদরের পশ্চিম বাজার ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় নওগাঁ- ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের দক্ষিন ধারে খাল ও সওজের সরকারি জায়গায় প্রকাশ্য দিবালোকে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছেন হারুনুর রশিদ ভোলা।
জানা গেছে, হারুনুর রশিদ ভোলা বিগত ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। সেই সুবাদে তিনি সরকারি ওই জায়গা অবৈধ ভাবে দখল করে নির্মান কাজ শুরু করেন। আওয়ামী লীগের করুণ পতনের পর কাজটি বন্ধ রাখেন। এরপর তিনি ভোল পাল্টে বর্তমানে ক্ষমতাশীন সরকার দলের লোক বলে দাবী করছেন। কারণ হিসাবে এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসিন্দারা বলেন হারুনর রশিদ ভোলার ছেলে সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের নেতা। আর এই প্রভাবকে কাজে লাগিয়েই অবাধে সরকারি জায়গায় পাকা স্থাপনা দখল করে নিয়ে আবার ওই স্থাপনা সংস্কার করার চেষ্ঠা করছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে সরকারি জায়গায় নির্মান করা ঘরটি ভেঙ্গে ফেলার দাবী জানান। এবিষয়ে অভিযুক্ত হারুনুর রশিদ ভোলার সাথে যোগাযোগ করা হলে কোন বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই নির্মান কাজ করার সত্যতা স্বীকার করেন। উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি কামরুল হাসান মধু বলেন, কারো অন্যায় ও অবৈধ কর্মকান্ডের দায়ভার বিএনপি নিবে না। আপনারা বিষয়টি সংবাদপত্রে তুলে ধরতে পারেন।
এ ব্যাপারে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম বলেন, সরেজমিন তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বগুড়া সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদের সাথে যোগাযোগ কথা হলে তিনি জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন পূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে, উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় সরকারি জায়গা জবর দখল করে অবৈধ ভাবে স্থাপনা নির্মান হলেও কেন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রতিষ্ঠাতাঃ মিজানুর রহমান।
প্রকাশক ও সম্পাদক : আবুল কালাম আজাদ বাবু, মোবাইল : ০১৭১১৪১২৮৯৮,
সৈয়দ আহম্মদ কলেজ, সোনাতলা, বগুড়া।
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ।। দৈনিক বগুড়া মেইল