আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ রোপা আমন ধান চাষাবাদের ভরা মৌসুমে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে ডিলার সিন্ডিকেট। ইউরিয়া সারের চাহিদা অনুপাতে সরবরাহ কম দেখা গেলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্ধারিত এক হাজার তিনশত টাকা বস্তা দামেই বেচাকেনা হতে দেখা গেছে। তবে কৃত্রিম সংকটের কারনে স্থান, চাহিদা ও ব্যান্ড ভেদে প্রতি বস্তায় বেশি দামে ইউরিয়া সার বেচাকানা হতে দেখা গেছে। এদিকে গলাকাটা দামে বেচাকেনা হতে দেখা গেছে ড্রাই এমোনিয়া ফসফেট (ডিএপি), ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) এবং মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) নামের তিন প্রকারের নন-ইউরিয়া সার। রাসায়নিক সারের কৃত্রিম সংকট সংক্রান্ত তথ্য জানতে উপজেলার সারের বড় মোকাম নসরতপুর বাজারে সরেজমিনে যায় গণমাধ্যমের কয়েক সাংবাদিক। সাংবাদিকদের উপস্থিতির খবর মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ার পর একে একে দোকান বন্ধ করে দেয় ওই বাজারে সাতজন কিটনাশক ও খুচরা সার বিক্রেতা। এসময় নসরতপুর ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার মেসার্স শামসুল হক খন্দকারের মালিক সাজেদুল হক রোমেল সাংবাদিকদের নিকট সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি বিক্রি করার কথা অকপটে স্বীকার করেন এবং এখন থেকে সহনীয় দামে নন-ইউরিয়ার সার বেচাকেনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেখান থেকে দ্রুত চলে যাওয়ার অনুরোধ করেন। এমন সময় পাশের নিমকুড়ি গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান সহ কিছু সংখ্যক কৃষক সার না পেয়ে হৈচৈ শুরু করে দেয়। কিন্তু তারা অন্য ইউনিয়নের কৃষক হবার কারণে এই ডিলার সার দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। অবশ্য পরে কৃষকদের অনুরোধে এক বস্তা করে নন-ইউরিয়া সার দেয়। তথ্য সংগ্রহের সময় ওই ডিলার চায়না ব্যান্ডের প্রতি বস্তা ডিএপি সার এক হাজার ৫শত টাকা দামে বিক্রি করার কথা স্বীকার করে বলেন শুধু আমিই নয়, সব ডিলারই বেশি দামে বিক্রি করছেন বলে দাবী করেন। অথচ এই সারের সরকার নির্ধারিত দাম প্রতি বস্তা এক হাজার ৫০ টাকা। একই ভাবে প্রতি বস্তা এক হাজার তিনশত টাকা দামের তিউনিশিয়া ব্যান্ডের (কালো রংয়ের) টিএসপি সার এক হাজার ছয়শত টাকা থেকে এক হাজার সাতশত টাকা ও মরক্কো ব্যান্ডের (ধুসর সাদা রংয়ের) এক হাজার পাঁচশত ৫০ টাকা পর্যন্ত এবং এক হাজার টাকা বস্তার কানাডা ব্যান্ডের (দানাদার) এমওপি সার বিক্রি করা হচ্ছে এক হাজার একশত ৫০ টাকা দামে। কিন্তু রাশিয়া থেকে আমদানি করা ঝুড়া দানার এমওপি সার ডিলার রেট প্রতি বস্তা ৯০০ টাকা দামেও কেনাবেচা করার কোন খদ্দের মিলছে না বলে দাবী করেছেন ডিলাররা। বুধবার (১৯ আগষ্ঠ) উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে,চলতি আগস্ট মাসের বরাদ্দ পত্র মতে এই উপজেলায় ১০ জন বিসিআইসি ডিলারের অনুকূলে ইউরিয়া সার ৭শত মেট্টিক টন এবং ১০ জন বিসিআইসি এবং ১৯ জন বিএডিসি ডিলারের অনুকূলে ডিএপি সার ৩৯০ মেট্টিক টন, এমওপি সার ২৭০ মেট্টিক টন ও টিএসপি সার একশত ৪০ মেট্টিক টন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরপরও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে ডিলার সিন্ডিকেট। যোগাযোগ করা হলে উপজেলার সাব-ডিলার, কৃষক ও খুচরা সার বিক্রেতারা ডিলারের নিকট থেকে চাহিদা মোতাবেক সার না পাওয়া এবং ওই দামে নন-ইউরিয়া সার কেনার কথা জানিয়েছেন বেশ দৃঢকন্ঠে। তারা আরো বলেন সার কেনার সময় ডিলাররা প্রতিষ্ঠানের নামে ছাপানো রশিদের পরিবর্তে সাদা কাগজের স্লিপ হাতে ধরিয়ে দেন। এর প্রতিবাদ করলে পরে তার বা তাদের নিকট সার বিক্রি করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। ফলে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস দেখাই না। এবিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রবিউল ইসলাম, গলাকাটা দামে নন-ইউরিয়া সার বেচাকেনার ঘটনা অস্বীকার করে বলেন কোন সারই বেশি দামে বিক্রি করার সুযোগ নাই। এবিষয়ে সাব-ডিলার, খুচরা সার বিক্রেতা ও কৃষকরা বলেন, কৃষি অফিসার তো অস্বীকার করবেনই। কারণ ডিলাররা বিক্রির সময় আমাদের রশিদ না দিলেও মাসিক প্রতিবেদন কৃষি অফিসারকে দেওয়ার সময় কৃষক, সাব-ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের নামে সরকার নির্ধারিত দাম লিখে কাটা রশিদের কার্বণকপি জমা দেওয়া হয়। সারের সাব-ডিলার, খুচরা বিক্রেতা ও কৃষকদের নিরাপত্তার জন্য নিউজে তাদের পরিচয় ব্যবহার করা হল না। অপর দিকে সারের সাব-ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা জানান, মুল ডিলাররা গলাকাটা দামে নন-ইউরিয়া সার বিক্রি করেন কি না সেটা প্রমান করার জন্য কৃষি বিভাগ সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আমাদের ক্রয়-বিক্রয় খাতা চেক করে দেখলেই তো পারেন।
প্রতিষ্ঠাতাঃ মিজানুর রহমান।
প্রকাশক ও সম্পাদক : আবুল কালাম আজাদ বাবু, মোবাইল : ০১৭১১৪১২৮৯৮,
সৈয়দ আহম্মদ কলেজ, সোনাতলা, বগুড়া।
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ।। দৈনিক বগুড়া মেইল