মিহির কুমার সরকার,আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ শস্য ভান্ডার হিসাবে খ্যাত বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় অটো রাইচ মিলের দাপটের কারণে লোকসানে পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে ১৪২টি হাসকিং চাতাল । বিগত ৯০’র দশকেও ছিল এ উপজেলায় প্রায় ২৮০ টি হাসকিং চাতাল মিল। কিন্তু কালের বির্বতনে এসব হাসকিং চাতাল মিল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অনেকে এসব চাতাল মিল ভেঙে গড়ে তুলছেন বাসা-বাড়ি, দোকানপাট। আবার কেউ কেউ গড়ে তুলছেন গরু সহ হাঁস-মুরগি, ছাগলের খামার। এমন চিত্র দেখা যায় পুরো আদমদীঘি উপজেলাজুড়ে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় দেশের সর্ববৃহৎ খাদ্যগুদাম “সান্তাহার সিএসডি ও সাইলো” অবস্থিত। ১৯৮০ সালের দিকে শস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত এ উপজেলার আদমদীঘি সদর, সান্তাহার, নসরতপুর, চাঁপাপুর, কুন্দগ্রাম, ছাতিয়ানগ্রাম সহ বিভিন্ন এলাকার চাল ব্যবসায়ীরা ধানসিদ্ধ ও মাড়াইয়ের জন্য বয়লার হাসকিং মিল বা চাতাল নির্মাণ করেন। সে সময় চাতাল মালিকরা ধান-চালের এই ব্যবসায় প্রচুর মুনাফা অর্জন করছেন। যার ফলে আদমদীঘিতে একে একে গড়ে ওঠে প্রায় তিন শতাধিক প্রতিষ্ঠান।
আদমদীঘি উপজেলার হাসকিং চালকল মালিকরা জানান, অটো রাইস মিলগুলো দিনে তিন হাজার মেট্রিক টন ধান থেকে চাল উৎপন্ন করতে পারে। সেখানে হাসকিং চাল কলগুলোতে ১০ টনের বেশি ধান থেকে চাল উৎপন্ন করা যায় না। উৎপাদন ক্ষমতার এই বিশাল ব্যবধানের কারণে তাল মেলাতে না পেরে ও মূলধন হারিয়ে একের পর এক মিল ও চাতাল বন্ধ হয়ে গেছে। এসব হাসকিং মিল চাতালে প্রায় ৭ হাজারেরও বেশি নারী-পুরুষ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতো। ২০০০ সালের পর এ উপজেলায় অটো রাইস মিল স্থাপন শুরু হয়। তখন চাতাল মালিকদের সঙ্গে শুরু হয় প্রতিযোগিতা। তবে অটো রাইস মিলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় চাতাল মালিকরা প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারার কারণে মূলধন হারিয়ে তারা চাতাল ব্যবসা বন্ধ করতে শুরু করেন।
আদমদীঘির অটো রাইচ মিল ব্যবসায়ী মোত্তাকিন তালুকদার জানান, আমারও আগে হাসকিং চাতাল মিল ছিল। বর্তমানে আমার অটো রাইস মিল রয়েছে। ধানের দাম ও লেবার সংকটের কারণে আমরাও এ পেশায় টিকতে হিমশিম খাচ্ছি। এছাড়া হাসকিং চাতালে প্রতিদিন ৭৫ কেজি ওজনের ১৪০ বস্তা ধান প্রয়োজন হয়। পক্ষান্তরে অটো রাইচ মিলে প্রতিদিন ৩ হাজার মেট্রিক টনের অধিক ধান প্রয়োজন হয়। উৎপাদন ক্ষমতার এই বিশাল ব্যবধানের কারণে মূলধন হারিয়ে একের পর এক হাসকিং চাতাল মিল বন্ধ হয়ে গেছে এবং আমাদেরও ব্যাপক সমস্যার সম্মুখিন হতে হচ্ছে। চালকল মালিক মতিউর রহমান জানান,নানা কারনে স্বয়ক্রিং চালকল ব্যবসায়ীদের সাথে আমরা টিকতে পারছি না। এর অন্যতম কারন হলো,ধান থেকে চাল উৎপাদনের আনুপাতিক হার। আদমদীঘি উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানাযায়, এ বছর ইরিবোরো মৌসুমে উপজেলায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১ হাজার ১৯৭ টন এবং চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ টন। চলতি মৌসুমে শতভাগ ধান-চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে আশা করছে খাদ্য বিভাগ।
আদমদীঘি উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আবুল বাশার জানান, স্বয়ক্রিং চালকলের সংখ্যা বৃদ্ধি, ধানের দাম বেড়ে যাওয়া ও মূলধন হারানো সহ বিভিন্ন কারনে সাধারন চালকল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠাতাঃ মিজানুর রহমান।
প্রকাশক ও সম্পাদক : আবুল কালাম আজাদ বাবু, মোবাইল : ০১৭১১৪১২৮৯৮,
সৈয়দ আহম্মদ কলেজ, সোনাতলা, বগুড়া।
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ।। দৈনিক বগুড়া মেইল